জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য তহবিল (ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ফর হেলথ) গঠনের প্রয়োজন রয়েছে, জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ও আলোচনা হয়েছে, এখন মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়নের সময়।
বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ’ (এটিএসিএইচ) বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং এটিএসিএইচ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। এসব দেশে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজারসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণাক্ততা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত ইটভাটার পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জ্বালানি ও পানি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৬-৩০’ প্রণয়ন করেছে। এতে ডেঙ্গুসহ ভেক্টরবাহিত রোগ, পানিবাহিত রোগ, তাপপ্রবাহ ও বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতা, অপুষ্টি, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের স্বাস্থ্যগত প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সভায় নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। এর আগে ইউনিসেফের আমন্ত্রণে ডেনমার্ক সফর শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে প্যারিসে যান।


