চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) জ্যেষ্ঠ সহ-চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া এবং আরেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা লিউ ঝেনলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানোর আগে তারা দুজনই ‘শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন’ অভিযোগে তদন্তের আওতায় ছিলেন। চীনে এই শব্দটি সাধারণত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, শনিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের এমন সিদ্ধান্ত সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযোগ পর্যালোচনার পর ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরপরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঝাং ইউশিয়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ছিলেন এবং একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সহ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদটি চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে অন্যতম প্রভাবশালী অবস্থান হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, লিউ ঝেনলি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের যৌথ স্টাফ বিভাগের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এই বিভাগটি চীনের সামরিক পরিকল্পনা, বাহিনীগুলোর সমন্বয় এবং কৌশলগত প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এই ঘটনাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানের সবশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি, সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছেন, যার আওতায় এ পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই শুদ্ধি অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য একদিকে সামরিক বাহিনীতে সংস্কার, অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করা। শি জিনপিং নিজেও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান।


