ভারতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ফল গণনার দুই দিন আগে ১৫ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে শনিবার ফের ভোট আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ওই কেন্দ্রগুলোতে গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট হয়। আগামী ৪ মে ভোট গণনা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, প্রার্থী এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ দেওয়ায় মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারের চারটি ভোটকেন্দ্রে শনিবার আবারও ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট দুই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার ও পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন এবং ‘বাস্তব পরিস্থিতি’ বিবেচনা করেই এসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে ডায়মন্ড হারবারের ২৯ কেন্দ্র এবং মগরাহাটের ১৩ কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণে কারচুপির অভিযোগ জমা পড়েছে। ডায়মন্ড হারবারের ফলতা কেন্দ্রেও আবার ভোট হবে কি না, সে বিষয়ে শনিবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই কেন্দ্রের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।
সাধারণত রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট বা পর্যবেক্ষকরা ইভিএম বিকল হওয়া, বুথ দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্ভোট দাবি করে থাকেন।
এদিকে পুনরায় ভোট ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্কও। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি ( বিজেপি) অভিযোগ করেছে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক নির্বাচন কারচুপি হয়েছে। এই লোকসভা কেন্দ্রটির প্রতিনিধি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বড় ব্যবধানে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটে পুনর্ভোটের দাবি তুলেছে। তিনি বলেন, ‘জনমত বিজেপির বিরুদ্ধে, এবং সেটাই থাকবে।’
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই “একাধিক বুথে কারচুপি” হয়েছে।’ তবে নির্বাচন কমিশনের পুনর্ভোটের সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে দুই দফার এই বিধানসভা নির্বাচন গত বুধবার শেষ হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে- এবার রাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৮১ লাখ। প্রথম দফায় গত ২৩ এপ্রিল প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৯১ শতাংশ ভোটার ভোট দেন।
এর আগে ২০১১ সালে সর্বোচ্চ প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোটগ্রহণের রেকর্ড ছিল। চলতি বছর প্রথম দফায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯২ শতাংশ, পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় দফাতেও নারী ভোটারের অংশগ্রহণ পুরুষ ভোটারের তুলনায় সামান্য বেশি ছিল।
এদিকে, একাধিক বুথফেরত পরিসংখ্যান জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।
প্রজা পোলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার বিজেপি পেতে পারে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন, যা ২০২১ সালের ৭৭ আসনের দ্বিগুণের বেশি। অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন, যা আগের ২১৫ আসনের তুলনায় অনেক কম।
টুডেজ চাণক্য জানিয়েছে, বিজেপি প্রায় ১৯২টি আসন পেতে পারে এবং তৃণমূল নেমে আসতে পারে প্রায় ১০০ আসনে। পি-মার্কের হিসাবে বিজেপি পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন এবং তৃণমূল ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন।
ম্যাট্রাইজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন, আর পোল ডায়েরির মতে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন। এসব সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী তৃণমূল পেতে পারে যথাক্রমে ১২৫ থেকে ১৪০ এবং ৯৯ থেকে ১২৭টি আসন।
অন্যদিকে, জনমত পোলসের তথ্য বলছে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পেতে পারে ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন এবং বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন।
পিপলস পালসও জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন এবং বিজেপি সীমাবদ্ধ থাকতে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসনে।
তবে সতর্কবার্তা হিসেবে প্রত্যেকেই জানিয়ছে, বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষা অনেক সময় ভুল প্রমাণিত হয়।


