চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম জালাল উদ্দিন মুন্না।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান।
থানা সূত্রে জানা যায়, চাকসু সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার জালাল উদ্দিন মুন্নাকে হাটহাজারী মাদরাসা এলাকার পাশ থেকে আটক করা হয়। মুন্নার বিরুদ্ধে হামলায় মূল নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঘণ্টাখানেক আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই মামলার এক নম্বর আসামি। তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আমরা পাইনি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা প্রথমে এক নম্বর আসামি হিসেবে আরিফুল ইসলামের নাম দিয়েছিলাম। তবে মুন্না নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনিই এ ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে তাকে আটক করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’
এর আগে চাকসু নেতা মাসুম বিল্লাহর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চাকসুর নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘মাসুম ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে?, আমার ভাই আহত কেনো? প্রশাসন জবাব চাই। এই মুহূর্তে দরকার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত কর, করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
মানববন্ধনে চাকসুর সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত জানান, এ ঘটনার সূত্রপাত ৪ তারিখে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের সমঝোতার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে মাসুম বিল্লাহ সমাধানের ভূমিকা রাখেন। এর জের ধরে সন্ত্রাসীরা তাকে চিহ্নিত করে রাখে এবং পরবর্তীতে সোমবার রাতে তার উপর বর্বর হামলা চালায়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ধরনের সমঝোতা শিক্ষার্থীরা কেন করবে, এটি প্রশাসনের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।’
সোমবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাসুম বিল্লাহর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। ক্ষুর-ব্লেডের আঘাতে তার চোখের ওপরে কেটে যায়। আহত হন তার সঙ্গে থাকা ভাগ্নেও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আগে থেকেই মাসুম বিল্লাহকে অনুসরণ করছিলেন। পরে রাস্তা আটকে তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে হাত, পা ও মাথায় আঘাত করে এবং ক্ষুর দিয়ে চোখের ওপর কেটে দেয়।
হামলার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ৪ মার্চ বহিরাগত এক ব্যক্তি ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনায় তিনি সমঝোতার দায়িত্বে ছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই তার ওপর হামলা হয়েছে।


