চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে পৃথক ঘটনায় গোসল করতে নেমে ও মাছ ধরতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রসহ তিনজন পানিতে ডুবে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও মহানন্দা নদীতে নিখোঁজ একজনকে উদ্ধারে অভিযান স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পদ্মা নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই স্কুলছাত্র হলো সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের রউফ হাজিপাড়া গ্রামের জেম আলীর ছেলে রিফাত (১৬) এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের চরতেরোরশিয়া এলাকার আলম হোসেনের ছেলে রাসেল (১৭)। তারা দুজনই স্থানীয় সোবহান উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, এদিন স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের আলিমনগর ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায় রিফাত ও রাসেল। গোসলের একপর্যায়ে তারা নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
বন্ধুরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল পৌঁছে বিকাল ৪টার দিকে অভিযান শুরু করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইফ হাসান শুভ জানান, প্রায় আড়াই ঘণ্টা উদ্ধার অভিযানের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে মহানন্দা নদীর রাবার ড্যাম সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন পৌর এলাকার আরামবাগ-আজাইপুর মহল্লার রুহুল আমিনের ছেলে মো. সাকিরুল ইসলাম (৩০)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সেখানে অভিযান শেষ করার পর রাত হয়ে যাওয়ায় মহানন্দা নদীতে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। বুধবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।


