টাইমসে খবর প্রকাশ/ কৃষক সেন্টুর বাড়িতে ডিসি

কৃষক সেন্টুর বাড়িতে ডিসি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ২১ বছর ধরে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে গবেষণা করছেন কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজং। তাকে নিয়ে গত ১০ অক্টোবর টাইমস-এর প্রথম পাতা ও অনলাইন সংস্করণে ‘ধান নিয়ে এক কৃষকের ২১ বছরের গবেষণা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর শুক্রবার তার বাড়ি পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামে সেন্টু কুমার হাজংয়ের বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি তার সঙ্গে কথা বলেন এবং ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও কৃষিতে অবদান সম্পর্কে খোঁজ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘শেরপুরের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব উদ্যোগ বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে চাই। সেন্টু কুমার হাজংয়ের মতো উদ্ভাবকদের হাত ধরে শেরপুরের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে। দেশের কৃষির সম্ভাবনাও বিকশিত হবে বলে আমরা আশা করি।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘সেন্টু কুমার হাজংয়ের পথচলা প্রমাণ করে, সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ মানুষের সম্ভাবনার চূড়ান্ত সীমা নয়। মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও নিরন্তর প্রচেষ্টায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন সম্ভব। সমাজের এমন নীরব কর্মবীর ও তৃণমূলের উদ্ভাবকেরা আমাদের প্রকৃত সম্পদ। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, কর্মনিষ্ঠা ও সৃজনশীলতায় যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিলে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

সেন্টু চন্দ্র হাজংয়ের বয়স ৫৫ বছর। নেই কোনো গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা বড় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন তিনি। নিজের ১২ কাঠা জমিকে গবেষণাগার বানিয়ে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন।

দীর্ঘ ২১ বছরের প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ২৫টি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন তিনি। আরও দুই শতাধিক জাত উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন সেন্টু।

তার উদ্ভাবিত ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় শত শত কৃষক। বাজারেও এসব ধানের চাহিদা বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তার দীর্ঘদিনের গবেষণা সম্পর্কে অবগত থাকলেও এখনো কোনো জাতীয় স্বীকৃতি পাননি এই কৃষক।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad