চাঁদপুরের পদ্মা–মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরার অপরাধে ১৭ জেলেকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের প্রত্যেককে চার হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান। অভিযান চলার সময় তাদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও জাটকা জব্দ করা হয়।
মিজানুর রহমান জানান, ভোরে কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন- শেখ ফরিদ (৩০), মো. মাইনুদ্দিন (২০), বিল্লাল হোসেন (২৮), মো. বশির (২৩), রাসেল সরকার (৩২), ইউসুফ আলী (২০), শরিফুল ইসলাম (১৮), ফারুক আলম (২৮), জাহিদ হাসান (২৫), আব্বাস আলী (৩২), মো. ইসলাম (৩২), মো. ইব্রাহীম (৩৮), মো. শামীম (২০), মো. রফিক (২০), ইয়াছিন মোল্লা (২০), মনির হোসেন (৩২) ও মো. দ্বীন ইসলাম (২৪)।
তাদের বাড়ি চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর এবং লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলায়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, সোমবার বিকাল ৫টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৩টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আখনেরহাট, চেয়ারম্যান স্টেশন, হরিণা ঘাট, বহরিয়া, মিনি কক্সবাজার, পৌর এলাকার টিলাবাড়ি, আনন্দবাজার, লালপুর ও গাজীপুর টেক এলাকায় টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জাটকা ধরা অবস্থায় ১৭ জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও পাঁচ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়।
জব্দ করা জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয় এবং কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মার্চ–এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ।


