চবি শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিল চাকসু নেতারা

চবি শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিল চাকসু নেতারা
শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন চাকসু নেতারা | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হেনস্তার শিকার শিক্ষকের হাসান মুহাম্মদ রোমান ওরফে রোমান শুভ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আইন অনুষদের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চিঠি পেয়ে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন।

বিষয়টি জানতে পেরে চাকসুর প্রতিনিধিরা আইন অনুষদের ডিন কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চান, তিনটি তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে পরীক্ষার দায়িত্বে আছেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে রোমান শুভ পরীক্ষার হল থেকে সামনের পথ ব্যবহার না করে পেছনের একটি রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে ফেলেন এবং পরে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে চাকসুর আইনবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সাহায্য করতেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।’

আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি, রাজনৈতিক হামলায় উসকানি, এমনকি জোর করে বাসায় ডেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে।

আটকের পর অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, ‘তোমরা দেখো, জুলাই আন্দোলনের সময় আমি বাইরে বের হইনি। আমি কোনো মৌন মিছিলে যাইনি। যদি কেউ এটা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘আমি যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করেছি, তার বিরুদ্ধে কোনো মব হয়নি। তিনি পতিত সরকারের একজন সৈনিক হলেও তার ভেতরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে তাকে মবে ফেলা হতে পারে। সে কারণেই তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যেত, যাতে কোনো শিক্ষকের মানহানি না হয়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad