চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলের প্রার্থী মাইনুল ইসলাম রুবেল অভিযোগ করেছেন, এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়ে একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে।
সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মাইনুল ইসলাম গণঅধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি তার পোস্টে সরাসরি অভিযোগ করেন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন এবং উচ্চতর পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাহ আলমের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রুবেল জানান, গত ২৯ নভেম্বর তিনি দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা পান। সেই সময় পর্যন্ত তিনি ছাড়া কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। তিনি সীতাকুণ্ডে প্রচার-প্রচারণা চালান এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
তবে তার দাবি, ১৩ ডিসেম্বর রাতে লোকমান হোসেন তাকে চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেটে ডেকে নিয়ে যান এবং এক লাখ টাকার বিনিময়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেন। রুবেল এটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, বিষয়টি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রশ্ন। তিনি অভিযোগ করেন, লোকমান তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ‘বেইমানি’ করা হয়েছে।
রুবেল আরও উল্লেখ করেন, ২৪ ডিসেম্বর জসিম উদ্দিন তাকে চট্টগ্রাম-৪ থেকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনোনয়ন নেয়ার প্রস্তাব দেন, যা তিনি হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ২৮ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা থেকে মনোনয়ন প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি নিলে জানতে পারেন, তার অজান্তে এটিএম পারভেজ নামে একজন ব্যক্তি চট্টগ্রাম-৪ আসনের মনোনয়ন ও প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রুবেল অভিযোগ করেন, এতে শাহ আলম সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন।
রুবেল বলেন, এটিএম পারভেজকে তিনি বা সীতাকুণ্ডের কোনো নেতাকর্মী আগে কখনো দেখেননি বা চেনেন না। দীর্ঘ আট বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এমন ‘সম্পূর্ণ অপরিচিত’ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি বিস্মিত।
তার অভিযোগ, লোকমান হোসেন, জসিম উদ্দিন ও শাহ আলম যৌথভাবে মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত এবং এক লাখ টাকা ভাগ করে নিয়েছেন।

মাইনুল ইসলাম রুবেল আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য চলে আসছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং যোগ্য পদ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে, দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৪ আসনে মাইনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে ফরম জমার শেষ দিনে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এটিএম পারভেজকে প্রার্থী করা হয়। টাকার কোনো লেনদেনের বিষয় আমি জানি না। মাইনুল আমাদের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা, তিনি ক্ষোভ থেকে মিথ্যাচার করছেন।’


