অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনজন

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনজন
বাম থেকে জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ এবং পিটার হাউইট।
Advertisement
Advertisement

২০২৫ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ–জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ এবং পিটার হাউইট।

বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এক ঘোষণার মাধ্যমে এ বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম প্রকাশ করে।

একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করার জন্য’ তিন অর্থনীতিবিদকে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম ‘স্ভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস ইন মেমরি অব আলফ্রেড নোবেল’, যা ১৯৬৯ সালে চালু হয়। এ বছরও এটি নোবেল সিরিজের শেষ ঘোষিত পুরস্কার।

মোট ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। রয়টার্সের তথ্যানুসারে, এই পুরস্কারের মূল্যমান ১২ লাখ মার্কিন ডলার। এই পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন জোয়েল মোকিয়র, আর বাকি অর্ধেক ভাগ করে নেবেন ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট।

নোবেল কমিটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই অর্থনীতিবিদরা আমাদের শিখিয়েছেন ‘টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে না।’ মানব সভ্যতার ইতিহাসে দীর্ঘ সময় জুড়ে অর্থনৈতিক স্থবিরতাই ছিল স্বাভাবিক অবস্থা, প্রবৃদ্ধি নয়। তাদের গবেষণা প্রমাণ করেছে, প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখতে হলে উদ্ভাবনের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোকে মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হয়।

জোয়েল মোকির ১৯৪৬ সালে নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

আরও পড়ুন

ফিলিপ আগিয়োঁর জন্ম ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে। তিনি ১৯৮৭ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি প্যারিসের কলেজ দ্য ফ্রঁস ও ইনসিয়াডে অধ্যাপনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসেরও অধ্যাপক।

পিটার হাউইটের জন্ম ১৯৪৬ সালে কানাডায়। তিনি ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।

নোবেল কমিটির সদস্য জন হাসলার বলেন, ‘জোয়েল মোকির ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতা কীভাবে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট ‘সৃজনশীল বিনাশ’ বা (ক্রিয়েটিভ ডেসট্রাকশন)-এর গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন, যেখানে নতুন ও উন্নত পণ্য পুরোনোকে প্রতিস্থাপন করে, ফলে অর্থনীতি থাকে চিরগতিশীল।’

নোবেল ইতিহাসে অর্থনীতির এই পুরস্কার তুলনামূলকভাবে নতুন। এটি চালু হয় ১৯৬৯ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক, আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। প্রথমবার এ পুরস্কার পান নরওয়ের র‍্যাগনার ফ্রিশ ও নেদারল্যান্ডসের জান টিনবারগেন, তাদের ‘ডাইনামিক ইকোনমিক মডেলিং’-এর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ।

এরপর থেকে বেন বার্ন্যাঙ্কি, পল ক্রুগম্যান, মিল্টন ফ্রিডম্যানের মতো অর্থনীতিবিদরা এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যারা আধুনিক অর্থনীতির তাত্ত্বিক ও নীতিগত কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সবচেয়ে বেশি বয়সে (৯০ বছর) এই পুরস্কার পেয়েছিলেন লিওনিড হারউইচ, ২০০৭ সালে। আর সবচেয়ে কম বয়সে (৪৬ বছর) ২০১৯ সালে এই সম্মান পান এস্থার দুফলো, স্বামী অভিজিৎ ব্যানার্জির সঙ্গে যৌথভাবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর