টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল এবং সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে কার্যক্রম ও প্রবেশ বন্ধ রাখাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।
শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশের সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখ, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও মাশায়েখ টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা, দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান পরিস্থিতি এবং সরকারের করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
সম্মেলন থেকে ঘোষিত ৮ দফা দাবি হলো- টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে দায়ের করা জিআর ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
টঙ্গীর হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ও আহতদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোক, তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ বা কোনো কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিগত ২০১৮ এবং ২০২৪ মামলায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধিরা মনে করছে তারা এরকম অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে সেই লক্ষে গত দুই তিন দিন আগে ওয়াসিফুল ইসলামের ফরেন করেস্পন্ডার হিসেবে দাবিকৃত রেজা আরিফের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিকদের কাছে সাদপন্থীদের ইজতেমা টঙ্গী ময়দানে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি এবং বিদেশি অ্যাম্বাসিগুলোতে অ্যাপ্লিকেশন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় এবং ওলামায় কেরামদের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা প্রদান করা হয় এ ধরনের মানহানিকর বার্তা প্রদানের জন্য দায়ী ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওয়াসিফপুত্র ওসামা এবং সায়েম এদেরকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী মামলা দেওয়া হোক।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখ ও মুফতিয়ানে কেরামের পরামর্শের ভিত্তিতে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সমস্যাগুলো নিরূপণ করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে দেশের বৃহৎ আলেম সমাজের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, দ্বীনি পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং দাওয়াত ও তাবলিগের বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।


