ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ২৯ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে। এই আবেদন চলবে ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
সোমবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান।
সভায় উপউপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি, যোগ্যতা ও কেন্দ্র নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৮ নভেম্বর
ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২৮ নভেম্বর আইবিএ ইউনিটের মাধ্যমে। সেদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৯ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা, ৬ ডিসেম্বর একই সময়ে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের (গ ইউনিট) পরীক্ষা, ১৩ ডিসেম্বর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের (খ ইউনিট) পরীক্ষা এবং সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের (ক ইউনিট) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। পরীক্ষার্থীরা ২৪ নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
ভর্তির যোগ্যতা
ভর্তির যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক বা সমমান এবং ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবেন না। ভর্তি যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের গড় মান (জিপিএ) বিবেচনা করা হবে।
বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার (চতুর্থ বিষয়সহ) জিপিএ’র যোগফল ন্যূনতম ৮.০ হতে হবে এবং পৃথকভাবে উভয় পরীক্ষায় অন্তত ৩.৫ থাকতে হবে। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আবেদনকারীদের জন্য জিপিএ’র যোগফল অন্তত ৭.৫ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে। চারুকলা ইউনিটে আবেদন করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় পৃথকভাবে অন্তত ৩.০ থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র
এবারের ভর্তি পরীক্ষা ঢাবি ক্যাম্পাস ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আটটি বিভাগীয় কেন্দ্রে–রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তবে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন
চারুকলা ইউনিট ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোতে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। চারুকলা ইউনিটে ৪০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এমসিকিউ পরীক্ষার সময়সীমা অন্যান্য ইউনিটে ৪৫ মিনিট এবং চারুকলায় ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা অন্যান্য ইউনিটে ৪৫ মিনিট এবং চারুকলায় ৬০ মিনিট।
ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় থাকবে ১০০ নম্বর এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত ২০ নম্বর যোগ হবে।


