ল্যুভর জাদুঘরে সংঘটিত ১০২ মিলিয়ন ডলারের গয়না ডাকাতির ঘটনায় আরও এক নারী ও এক পুরুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে এই ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্যারিসের প্রসিকিউটর শনিবার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ৩৭ বছর বয়সী ওই পুরুষের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে আগের অনেক চুরির অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যক্তিকে এবারও সংগঠিত চুরি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীকে সংগঠিত চুরিতে সহযোগিতা এবং একই ধরনের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
অক্টোবরের ২৯ তারিখে ওই নারী ও পুরুষসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, বাকি তিনজনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই সন্দেহভাজনকে তদন্তকারী বিচারকদের সামনে আনা হলেও তারা ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
প্রসিকিউটর তাদের বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি, তবে ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী প্যারিসের উত্তরে অবস্থিত দরিদ্র উপশহর হিসেবে পরিচিত লা কুরনুভ এলাকার বাসিন্দা।
গত সপ্তাহে প্রসিকিউটর জানান, মামলার প্রথম দুই সন্দেহভাজন আংশিকভাবে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে একজন ৩৪ বছর বয়সী আলজেরীয় নাগরিক, যিনি ২০১০ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাস করছেন এবং আলজেরিয়া যাওয়ার ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় চার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অপরজন ৩৯ বছর বয়সী ব্যক্তি, যিনি ইতিমধ্যে একটি বড় চুরির মামলায় বিচারিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। দুজনেই প্যারিসের উত্তরে নিম্ন-আয়ের এলাকা ওবারভিলিয়েতের বাসিন্দা।
প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত এখনও চলমান এবং এখনো পর্যন্ত চুরি হওয়া গয়নার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর সকালে সাড়ে নয়টার দিকে ল্যুভর মিউজিয়ামে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী দুই চোর একটি মুভার লিফট ব্যবহার করে লুভ্যর জাদুঘরের দ্বিতীয় তলার জানালায় পৌঁছে, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দিয়ে গয়নার প্রদর্শনী কাচ ভেঙে কৌশলে জাদুঘরে ঢুকে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ানের সময়ের বিভিন্ন গয়না চুরি করে এবং দুই সহযোগীর স্কুটারে চড়ে পালিয়ে যায়।
জাদুঘর থেকে চুরি যাওয়া বস্তুগুলো হল- ১৯ শতাব্দীর রানী মেরি-অ্যামেলি ও হরটেন্সের ব্যবহৃত নীলা ডায়াডেম (দুষ্প্রাপ্য নীল হীরার গয়না), গলার হার এবং কানের দুল, সম্রাট নেপোলিয়ানের দ্বিতীয় স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মেরি-লুইজের পান্নাখচিত গলার হার ও কানের দুল, সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ডায়াডেম এবং ১৯ শতাব্দীর ফরাসি সম্রাটদের সময়কার বো টাইয়ের ব্রোচ।
এই চাঞ্চল্যকর ডাকাতি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কেননা, বিশ্বের সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় এই জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এ ঘটনা।


