চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামে শিশু মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া, হাম নয়।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের মিজেলস ব্লক পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। কেবল একজন শিশুর শরীরে হাম এবং আরেকজনের ক্ষেত্রে রুবেলার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
মেয়র জানান, সম্প্রতি যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে শিশু ও মা রয়েছেন—তাদের মৃত্যু হয়েছে সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে। এগুলো হামজনিত মৃত্যু নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিউমোনিয়া গুরুতর আকার ধারণ করলে তা জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে।
দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও চট্টগ্রামে এখনো তেমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে উল্লেখ করেন মেয়র। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জ্বর বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলেই সেটিকে হাম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে।
গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার নিউনেটাল আইসিইউ ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সুবিধা চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ১০ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা এবং ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১০ লাখ শিশুকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হয়েছে। টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও আশ্বস্ত করেন মেয়র।
একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি মায়েদের প্রতি আহ্বান জানান, গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে শিশুর জন্মের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সব টিকা নিশ্চিত করতে। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে একাধিক রোগী চিকিৎসাধীন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর কোনো তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য আলাদা বিশেষ কর্নার চালু করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সন্দেহজনক হাম রোগীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি টিকাদান সূচি অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হাম টিকা দেওয়া হয়। তবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনও টিকা নেওয়ার সময় হয়নি, তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে।


