যশোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন (৫০) নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে যশোর শহরের শঙ্করপুর এলাকার ইসহাক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর হোসেন শঙ্করপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন।
বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, আলমগীর হোসেন ওই ওয়ার্ডের বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য।
নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এদিন সন্ধ্যার পর আলমগীর হোসেন একটি মোটরসাইকেলে করে বটতলা এলাকা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন।
পথে হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে খবর পেয়ে তিনি যশোর সদর হাসপাতালে এসে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, নিহতের মাথার দুপাশে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি এলাকায় জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান এই ব্যবসার সঙ্গী ছিলেন।
এলাকাবাসী আরও জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততাও রয়েছে। তার মামারা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা। তার মামাতো ভাই শাহেদ হোসেন নয়ন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।
জানা গেছে, নিহত আলমগীর হোসেনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ছেলে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু তার মেয়ের শ্বশুর।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি শঙ্করপুর ইসহাক সড়কে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করা হয়েছে। তার কপাল ও মাথায় দুটি গুলি লেগেছে।’
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আটক করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।


