কিডনি রোগ মোকাবিলায় শুধু ডায়ালাইসিস বা হাসপাতাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়; রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা, নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাগত বক্তব্যে সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে কিডনি রোগকে অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৬ থেকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন এবং প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এ ছাড়া বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ নতুন কিডনি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘১৯৯০ সালে কিডনি রোগে মৃত্যুঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল বিশ্বে ১৯তম, যা বর্তমানে সপ্তমে উঠে এসেছে। কিডনির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার আগে রোগটি শনাক্ত হয় না, ফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।’
তিনি নারীস্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নিরাপদ শৌচাগারের অভাবে অনেক নারী দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন, যা কিডনি রোগের অন্যতম কারণ। চট্টগ্রাম জেলায় মানসম্মত গণশৌচাগার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলা প্রশাসন কাজ করবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি নকল ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দেন ডিসি।
চমেক হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান নুরুল হুদা বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি বছরে অন্তত দুবার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রতিনিধিরা নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর জোর দেন। সচেতনতা কার্যক্রম সফল করতে প্রশাসন, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত ‘কোর কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
সেমিনারের মূল বার্তা ছিল, ‘কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব; সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ।’


