চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অপহরণের দুই দিন পর নিখোঁজ শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় জায়হান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, সে হয়তো পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে খোঁজ চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।
একপর্যায়ে শিশুটির ঘরের বিছানার ওপর একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের একজনের মোবাইল ফোন আনলক করে চিঠিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানায়। আলামত হিসেবে চিরকুটটি জব্দ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভে প্রতিবেশীরাই পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরাও পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার অভিনয় করেছিল।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভোরে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


