২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু হয়েছে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে। ১৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ইতিহাসগড়া হ্যাটট্রিক করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল তার গোল নয়, বরং প্রথম গোলের পর চোখের পানি আটকে রাখতে না পারার দৃশ্য।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে কথা বলেন মেসি। তিনি বলেন, ‘এটি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন একটি বিষয়। আমি কিছু কঠিন ও জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি।’
৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ব্যক্তিগত বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য সতীর্থ ও আর্জেন্টিনা দলের পুরো প্রতিনিধিদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি পুরো প্রতিনিধিদল ও আমার সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে ভালো রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে।’
বিশ্বকাপের মাঠে মেসির পারফরম্যান্স ছিল ইতিহাসের অংশ। এই তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ তে, যার ফলে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের সঙ্গে পুরুষদের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে যৌথভাবে স্থান পেয়েছেন তিনি।
ম্যাচের আগে মেসির বিশ্বকাপ গোল ছিল ১৩টি। এক রাতেই তিনি গার্ড মুলার ও ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোসহ বহু তারকাকে ছাড়িয়ে যান।
এই মাইলফলক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বরাবরের মতোই বিনয়ী ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সম্মানের বিষয়। কারণ এর অর্থ অনেক বড়। ক্লোসে ও অন্যদের সঙ্গে একই তালিকায় থাকা গর্বের। তবে শেষ পর্যন্ত এগুলো শুধু পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়। আমার দেখা সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনালদো, অথচ তিনি এই তালিকায় প্রথম স্থানে নেই।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে মেসি নিজের সঙ্গে টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালের একটি মিলের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘রাফায়েল নাদালকে নিয়ে তৈরি সিরিজটি আমি দেখছি এবং নিজেকে এর সঙ্গে অনেকখানি মেলাতে পারছি। একটা দিক থেকে আমাদের দুজনের অনেক মিল। সেটা হলো, আমরা সব সময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে চাই।’


