কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার

কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সহযোগিতায় নেপালি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষাকে প্রচারের লক্ষ্যে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেলায় বাংলাদেশের ২০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অংশগ্রহণ করে এবং আগ্রহী নেপালের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়।

মেলার উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে, বিশেষত মেডিকেল শিক্ষায়, দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, উন্নতমানের শিক্ষা, বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, সাশ্রয়ী টিউশন ফি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কোর্স কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি কানাডিয়ান সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অধিক উন্নত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের ভাষা ও সামাজিক পরিবেশের সাদৃশ্যের কারণে নেপালি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সময় অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের রোগ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়, যা তাদের উন্নত ক্লিনিক্যাল জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে।

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেপালি চিকিৎসক বাংলাদেশ থেকে মেডিক্যাল শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে নেপালের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্নাতকোত্তর (পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট) চিকিৎসকদের মান সর্বোচ্চ এবং তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও সমাদৃত, উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে দূতাবাসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

উদ্‌বোধনী অধিবেশনে বিপিএমসিএ-এর মহাসচিব বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন, যেখানে একাডেমিক মান, পাঠ্যক্রমের কাঠামো, ক্লিনিক্যাল এক্সপোজার এবং শিক্ষার্থী সহায়তা সেবাসমূহ তুলে ধরা হয়।

বিপিএমসিএ-এর সাবেক সভাপতিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ লাভ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতার শর্ত, একাডেমিক প্রোগ্রাম, টিউশন ফি, বৃত্তি, আবাসন সুবিধা এবং বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক জীবনযাপন সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং একাডেমিক মহলের কাছ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পায় এবং একটি সময়োপযোগী ও তথ্যবহুল উদ্যোগ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ৫০০-এর বেশি নেপালি শিক্ষার্থী মেলা পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিপিএমসিএ -এর প্রতিনিধি দল নেপালের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের সচিব (স্বাস্থ্য) ড. বিকাশ দেবকোটার এবং নেপাল মেডিকেল কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad