মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর ৪০ হাজার মেট্রিক টন রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাচ্ছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজটির গতিপথসংক্রান্ত তথ্য থেকে শুক্রবার এ খবর জানা গেছে।
আর্থিক বাজার ও জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ ‘আগিওই ফানেন্দেস’ বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের দাম কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু বিধান শিথিল করা এবং জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে আরও ডিজেল বাজারে ছাড়তে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে আরও জ্বালানি বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সমঝোতার পর ডিজেল রপ্তানিতে নিজেদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে মস্কো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে আবার ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই অতিরিক্ত ১০ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করা হবে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্র নোভাক গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটির মাসিক ডিজেল রপ্তানি ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোরস্ক বন্দরে রপ্তানির উদ্দেশ্যে একাধিক জাহাজে ডিজেল বোঝাই করা হয়েছে। তবে এসব জাহাজের চূড়ান্ত গন্তব্য এখনো স্পষ্ট নয়।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ জাহাজ তাদের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জিব্রাল্টার, আটলান্টিক উপকূল অথবা মিসরের পোর্ট সাঈদের নাম দেখাচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য আমদানির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।
এরপর থেকে রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল ও তুরস্কে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। পাশাপাশি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও রুশ ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।


