তাইওয়ান উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৭১ জন। টাইফুন চাম্পির আঘাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এরইমধ্যে দেশের প্রায় সব এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বাতিল করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ফ্লাইট।
শুক্রবার দেশটিতে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এতে বলা হয়, সমুদ্রে বৃষ্টি ঝড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও সরাসরি তাইওয়ানের ভূখণ্ডে আঘাত হানার আশঙ্কা এখনো কাটেনি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান জেলায় এরইমধ্যে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার দিনের শেষ ভাগে ঘূর্ণিঝড়টি এই জেলার খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করার পূর্বাভাস রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, উপকূলীয় শহরগুলোর বাসিন্দাদের মুঠোফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রাজধানী তাইপেই ও আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকাগুলোতে প্রায় এক মিটার বা তিন ফুট বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে দুই হাজার ৬৩৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইপাওয়ার জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ৭৭ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে অধিকাংশ বাড়িতে এরইমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করা হয়েছে।
বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের মধ্যে বালুর বস্তা বিতরণ করেছে। একই সঙ্গে জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য স্থল ও জলপথে চলাচল করতে সক্ষম বিশেষ যান এবং বাতাসভর্তি উদ্ধার নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইলান জেলার বন্দরনগরী সুয়াওয়ের প্রধান লি মিং-চেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনীকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থল ও জলপথে চলাচল করতে সক্ষম বিশেষ যান ব্যবহার করা হবে।’
চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি চাম্পি। একপর্যায়ে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছিল। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে এলেও এর কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি তাইওয়ানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করার পর উত্তর দিকে মোড় নিয়ে চীনের উপকূলের দিকে এগোবে। পরে দক্ষিণ জাপানের দিকে চলে যাবে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টি শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানের ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা লিউ পেই-তেং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে আসার সময় ঘূর্ণিঝড়টি যদি থেমে যায়, ঘুরপাক খায় কিংবা এদিক-সেদিক দুলতে থাকে, তাহলে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতি অনেক শক্তিশালী। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ ঘূর্ণিঝড়। ঝড়টির গতি কমে গেলে শক্তিশালী বাতাসের প্রভাব তাইওয়ানে আরও কিছুদিন থাকতে পারে।’


