মিয়ানমারে আটক নেত্রী অং সান সু চিকে দুটি বই পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। সোমবার সু চির কাছে বই দুটি ও একটি সিল করা চিঠি পৌঁছে দেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার।
২০২১ সালে অভ্যত্থানের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের পর থেকে সামরিক বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন ৮১ বছর বয়সী সু চি। বিভিন্ন অভিযোগে তিনি কারাভোগ করছেন, যদিও সেগুলো সাজানো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং ব্যাপকভাবে নিন্দিত একটি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা করছেন। যে নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন তা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোয় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এশিয়াজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছেন তিনি। আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও।
সু চিকে উপহার দেওয়া বই দুটি হলো ব্রিটিশ উদ্যানবিদ ব্রিজেট এলওয়ার্দি ও হেনরিয়েটা কোর্টল্ডের লেখা ‘সয়েল টু টেবিল’ এবং ‘সয়েল: দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট আওয়ার ফিট’।
মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান সু চি। কারাবন্দী অবস্থায় তিনি প্রচুর পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়। বিশেষ করে ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক বই পড়ছেন তিনি।
সোমবারের বিবৃতির সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে সু চিকে হালকা সবুজ রঙের মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী টপস ও জলপাই রঙের স্কার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। একটি টেবিলে তার বিপরীতে সাদা শার্ট পরা দুজন পুরুষ বসে ছিলেন।
তবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা কিংবা ওই সাক্ষাতে আর কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু জানায়নি জান্তা সরকার।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর সু চিকে প্রথমে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়।
আগস্টে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির এক প্রতিনিধির সঙ্গে সু চির ছবি প্রকাশ করে সরকার। আড়াই বছর আগে ছেলে কিম অ্যারিসকে চিঠি পাঠানোর পর এটিই ছিল বাইরের বিশ্বের কারও সঙ্গে তার প্রথম নিশ্চিত যোগাযোগ।
লন্ডনে বসবাসরত কিম অ্যারিস দীর্ঘদিন ধরে মায়ের মুক্তির জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আগস্টে ওই খবরকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ছবি দেখে তার মাকে ‘সুস্থ’ মনে হয়েছে।


