গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের দুই বছর পূর্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনপন্থীরা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, তুরস্কের ইস্তানবুল, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, ফ্রান্সের প্যারিস, জার্মানির বার্লিন, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের রয়্যাল প্যালেস, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা, গ্রিসের এথেন্স, সুইডেনের স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহর উত্তাল হয়ে ওঠে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ ও যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন অনেকে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা গাজায় মানবিক সংকট ও রক্তপাত বন্ধের আওয়াজ তোলেন। তবে তাদের প্রতিবাদ ও ক্ষোভকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যেন নিজেদের সহিংসতাকে মহিমান্বিত করায় ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রাজনীতি ও কূটনীতিবিদরা।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিক্ষোভ
‘গাজা রক্তাক্ত’, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল – তোমাদের হাতে শিশুর রক্ত’, ‘যুদ্ধ বন্ধ কর’ লেখা ব্যানার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনপন্থী জনতা। ‘উইদইন আওয়ার লাইফটাইম’ নামের একটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মালিকানাধীন ‘ট্রাম্প হোটেলের’ সামনে নিহত গাজাবাসীদের স্মরণে প্রার্থনায় অংশ নেয়। এসময় নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্ত করতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ‘ইউনিটি সার্কেলে’ যোগ দেন হাজারও মার্কিনি।

লন্ডন ও ইউরোপে বিক্ষোভ
লন্ডনে, কিংস কলেজের বাইরে মঙ্গলবার শত শত বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় ‘ইসরায়েল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ উল্লেখ করে স্লোগান দেন তারা।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিনপন্থী এই বিক্ষোভকে ‘অবিবেচক’ ও ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর কেবল গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়নি। বরং প্রথমে ইসরায়েলে আক্রমণ করে সে যুদ্ধের সূচনা করেছিল হামাস।’
ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় গত দুই বছরে ইসরায়েলি হামলায় ৬৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন লাখের বেশি।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সীমান্তে ঢুকে হামাসের হামলা ও দুই শতাধিক মানুষকে অপহরণের ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে নিহত ইসরায়েলিদের স্মরণেও দেশে দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আলোচনার আয়োজন করা হয়।
ইসরায়েলি জিম্মিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মঙ্গলবার হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া এক জিম্মির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মে মাসে মুক্ত হওয়া এডান আলেকজান্ডার গাজায় বন্দি থাকা ‘শেষ জীবিত মার্কিন নাগরিক’। তবে তিনি ইসরায়েলেরও দ্বৈত নাগরিক। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা হামাসের হাতে জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে একটি স্মরণ সভায় অংশ নেন।
ইসরায়েলি তথ্যমতে, হামাস ওই হামলায় এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করে এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের ২৫০ জনের বেশি নাগরিককে জিম্মি করে ফিলিস্তিনে নিয়ে যায়।


