নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিলের পর লালমনিরহাট জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের নেতাকর্মীসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগে প্রকাশ্যে মিছিল করার ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলার পাঁচটি থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ভোটমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল হক, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আজিজার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. এরশাদুল হক, উত্তর ৩২ হাজারী এলাকার মো. আনোয়ার ও উত্তর দলগ্রামের রিপন চন্দ্র রায়কে।
পাটগ্রাম থানা পুলিশ রসুলগঞ্জের ছাত্রলীগ কর্মী শাহরিয়ার শামীম ও বুড়িমারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি তুহিনুজ্জামান বাবুকে গ্রেপ্তার করে।
হাতিবান্ধা থানা পুলিশ ফকিরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদনান শুভকে এবং আদিতমারী থানা পুলিশ ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওয়াডেবা গ্রামের নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়া সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কালীবাড়ির লতিফুর রহমান, খোর্দ সাপটানার সিফাত এবং সাবেক সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাপটিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোতালেব খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা বলেন, জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে। ছাত্রলীগের প্রকাশ্য মিছিলের পর জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাঁচটি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


