জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৩ আগস্ট চার্জগঠনের শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছে আদালত।
রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন। এদিন মামলার আসামি জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে পলককে প্রিজনভ্যানে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরবর্তীতে বেলা ১১ টার পর এজলাসে তোলা হয়।
এজলাসে দাড়িয়ে তিনি আদালতকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত আমার ৯৮ টা মামলায় ৮৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম, প্রতিটা মামলার বিচার চলছে, আইসিটিতে সাক্ষী চলছে। এ অবস্থায় ১৫ দিনে পরিবারের সাথে মাত্র আধাঘন্টা সাক্ষাতের সময় পাই।আমি মাননীয় আদালতের কাছে বিনয়ের সাথে আবেদন করবো,আমাকে আইনজীবীদের সাথে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য অন্তত দুই সপ্তাহে দুইদিন তিন ঘন্টা করে বিশেষভাবে সাক্ষাৎ এবং মামলা সংক্রান্ত ব্যপারে কথা বলার একটা অনুমতি দয়া করে দেওয়া হোক।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এ আজ এই মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা।
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ৩৪ জন আসামির মধ্যে আটজন জামিনে আছেন এবং পাঁচজন হাজতে আছেন। বাকীরা পলাতক। আজকে চার্জগঠনের তারিখ থাকায় সব আসামিকে আদালতে হাজির করতে হত। পাঁচজন হাজতি আসামির মধ্যে চারজনকে আদালত হাজির করা হয়েছে বাকি একজনের জন্য চার্জগঠনটের শুনানির তারিখ পিছিয়ে ১৩ আগষ্ট করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকের চালক হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামের দুই ব্যক্তি।
এর আগে, হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রে ৩৪ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।


