ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের (আইবিএফপি) মাধ্যমে ভারত থেকে দিনাজপুর পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে আরও প্রায় চার হাজার টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল এসে পৌঁছেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে এই অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত।
দিনাজপুর পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানান, এটি ছিল পাইপলাইনের ৭২তম চালান। ডিজেল পাঠানোর এই প্রক্রিয়াটি ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
২০১৮ সালে সই হওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্মত হয় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের মার্চে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনা যৌথভাবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনটি উদ্বোধন করেন।
এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এই পাইপলাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করে আসছে। প্রতি বছর ১০ লাখ টন হাই-স্পিড ডিজেল পরিবহনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই পাইপলাইনটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিতীয় আন্তসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই সহযোগিতা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম মাইলফলক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটের সময়ও বাংলাদেশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৭ হাজার ডিজেল আমদানি করেছিল।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ভারত থেকে মার্চে ১৭ হাজার টন, এপ্রিলে ২৫ হাজার টন এবং মে ও জুলাইয়ে ৮ হাজার টন করে পরিশোধিত ডিজেল কেনে। আগস্ট মাসে পেট্রোলিয়াম পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল।


