টাইফুন নাওল চীন ও হংকংয়ে আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে ৭ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট।
স্থানীয় সময় রোববার ভোরে দক্ষিণ চীন ও হংকংয়ে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে টাইফুনটি আঘাত হানে। এর প্রভাবে গুয়াংডং প্রদেশে লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। অঞ্চলটিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে দক্ষিণ গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝৌ শহরের হুইডং কাউন্টি উপকূলে নাওল আঘাত হানে। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, চলতি বছর চীনে আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন।
হংকং অবজারভেটরি জানায়, কেন্দ্রের কাছে সর্বোচ্চ ১১২ কিলোমিটার বা ৬৮ মাইল বেগে বাতাস নিয়ে নাওল রোববার গুয়াংডংয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকা টাইফুনটি অঞ্চলটিতে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়।
চীন ন্যাশনাল রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, গুয়াংডং প্রদেশে নিরাপত্তার স্বার্থে সাত লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। চীন নিউজ সার্ভিস জানায়, প্রদেশের ট্রেন চলাচল রোববার বন্ধ রাখা হয়।
চীনের ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার জানায়, সপ্তাহান্তে দক্ষিণ গুয়াংডং ও দক্ষিণ-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস বইতে পারে। গুয়াংডংয়ের উপকূলীয় হুইলাই কাউন্টিতে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়তে দেখা যায় বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়।
হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার প্রায় ৩৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। টাইফুনের সময় শহরটিতে অন্তত নয়জন আহত হন।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, নাওল হংকংয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর শনিবার বিকেলে একটি বহুতল ভবনের বড় স্ক্যাফোল্ডিংয়ের একাংশ ধসে পড়ে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, নাওল তাইওয়ানের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এটি তাইওয়ানের দক্ষিণ দিক দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার দ্বীপটি ছেড়ে চলে যায়।
চলتی মাসের শুরুর দিকে টাইফুন বাভি পূর্ব চীনে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত ঘটায়। এর ফলে ২০ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। টাইফুনটি ১১ জুলাই আঘাত হানে। আরেকটি টাইফুন মায়সাক ৩ জুলাই দক্ষিণ চীনে আঘাত হানে।


