যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ইসরায়েলে ২০০ সেনা পাঠাবেন ট্রাম্প

যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ইসরায়েলে ২০০ সেনা পাঠাবেন ট্রাম্প
গাজা পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য ইসরায়েলে সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং যুদ্ধাবসানে সহায়তা করতে ইসরায়েলে ২০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী বাহিনীর অংশ হিসেবে এই দল পাঠাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে এই সেনাদের কাউকেই সরাসরি গাজার ভেতরে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের কেবিনেট মিটিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব স্টেট) মার্কো রুবিওর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে অংশীদার দেশগুলো থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ও মানবিক সহায়তা সংস্থার সদস্যরাও গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে অংশ নেবেন। এই দলে মিশর, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনা সদস্যরাও যুক্ত থাকবেন।

মার্কিন সেনারা এই বহুজাতিক দলের অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবে। তবে মার্কিন সেনারা গাজা সীমান্তের বাইরে ঠিক কোথায় অবস্থান নেবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গাজা পরিস্থিতি বিনা বাধায় ও সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (পেন্টাগন) ইসরায়েলে একটি ‘সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ বা সামরিক-বেসামরিক সহায়তা কেন্দ্র গঠন করবে।

আরও পড়ুন

হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ইসরায়েলে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি/ ইউএনবি

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গাজা পুনর্গঠনে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগানোর বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়, এই কেন্দ্রের মাধ্যমেই গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত সহায়তা ও নিরাপত্তা সমন্বয় করা হবে। হোয়াইট হাউজ বলছে, গত দুই বছর ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধে বিপর্যস্ত গাজায় শান্তি ফেরাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সেন্ট্রাল কমান্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এই দলটি যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ধাপে ধাপে গাজায় একটি বেসামরিক সরকার (হামাস বিহীন) গঠনে সহায়তা করবে।

‘সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের’ দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনাদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ। তারা বিভিন্ন সময় যুদ্ধপরবর্তী অঞ্চল পুনর্গঠনে পরিবহন, পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত ও প্রকৌশলে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড যে সেনাদের ইসরায়েলে পাঠাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও কাছাকাছি অঞ্চলে মোতায়েন আছেন। অনেকে এরই মধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন এবং বাকিরাও কয়েকদিনের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। এরপর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত গতিতে তারা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন ও গাজা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কাজ শুরু করবেন।

এর আগে, শুক্রবার সকালে গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। যুদ্ধবিরতিসহ ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির পরিকল্পনায় এই অনুমোদন দেয় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার।

তবে ইসরায়েল ও হামাস ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আপাতত যুদ্ধ থামাতে সম্মত হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রস্তাবিত ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার’ অনেক দফাই এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যেমন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে সরে যাওয়া এবং গাজা শাসনে ভবিষ্যতে কেমন ধরনের সরকার গঠিত হবে এসব বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর