দেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সংকট, জনবল ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কাটাতে কার্যকর এবং ব্যয়বিহীন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বাস্তবভিত্তিক নানা সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে এমপি ফরিদ বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অপ্রতুলতা ও অব্যবস্থাপনা প্রকট। ২০০৭ সালে তার নির্বাচনী এলাকায় চৌগাছা উপজেলার হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।’
তিনি দাবি করেন, প্রায় ৩০টি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কিছু প্রস্তাব উল্লেখ করেন, যা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। তার মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
চিকিৎসক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে দেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন। তুলনামূলকভাবে ভারতে প্রতি ৯০০ জনে একজন এবং কিউবায় প্রতি এক হাজারে ৮ দশমিক ৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অননুমোদিত অনুপস্থিতি, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বিদেশে অবস্থান এবং ডেপুটেশনের মতো সমস্যার কারণে বড় ধরনের সিস্টেম লস তৈরি হয়েছে। অনেকে বেতন নেন কিন্তু কাজ করেন না, এটি আইনের ফাঁকফোকরের কারণে সম্ভব হচ্ছে।’
নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তার বক্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় দেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিষয়গুলো নোট করার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্য ফরিদ বলেন, ‘অর্থ, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে দুই মাসের মধ্যেই চিকিৎসক ও টেকনিক্যাল জনবল সংকট অনেকাংশে নিরসন সম্ভব।’
এ ছাড়া তিনি ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি চালুর বিষয়ে অর্থ, আইন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে সংসদে প্রতিবেদন পেশ করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আমি ৩০ বছরের আয়েশি জীবন ছেড়ে নতুন দেশ গড়তে বাংলাদেশে এসেছি। ছাত্রজীবনে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে অধ্যয়নকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম, যা জীবনের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তার গুণাবলি দেশ-বিদেশে আমার চলার পথে সহায়ক হয়েছে।’
প্রায় ৩৭ বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া এই সংসদ সদস্য জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ফিরে আসার ইচ্ছা ছিল তার। তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জানান, তার অনুপ্রেরণায় গত বছর দেশে ফিরে আসেন। একইসঙ্গে তিন দশকের প্রবাসজীবন ত্যাগ করে দেশে ফেরায় সহধর্মিণীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ প্রায় তিন দশক ধরে লন্ডনে চিকিৎসা সেবায় একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


