ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৫০টি স্থানে আধুনিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
বুধবার রাজধানীর পাবলিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘যাব কোথায়?’ নামের মোবাইল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন সকালে শ্যামলী পার্কে বিশ্ব টয়লেট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়।
তিনি বলেন, ঢাকার পাবলিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। সামাজিক দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে না এলে একা সরকারের পক্ষে সব বাস্তবায়ন করা কঠিন। দুই সিটির লক্ষ্য হলো সমন্বিতভাবে নগরের ৬৫০টি স্থানে আধুনিক টয়লেট নির্মাণ করা।
অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘আমরা বাড়িতে যেভাবে শৃঙ্খলা মেনে টয়লেট ব্যবহার করি, বাইরে গিয়েও সেই আচরণ বজায় রাখলে পাবলিক টয়লেটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ আরও সহজ হবে।’
নগরবাসীর টয়লেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় সামাজিক উদ্যোগ ‘ভূমিজ’ চালু করেছে জনবান্ধব অ্যাপ ‘যাব কোথায়?’. গুগল প্লে স্টোরে থাকা এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিকটবর্তী টয়লেট সহজেই খুঁজে পেতে পারবেন। অ্যাপটিতে টয়লেটের খোলার সময়সূচি, ছবি, পরিষেবার বিবরণ ও ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত রয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যাশলেস প্রবেশ ও সেবা গ্রহণের সুবিধাও থাকছে।
পথচারীদের প্রয়োজন বিবেচনায় ওয়াটারএইডের ‘পথের দাবি’ কার্যক্রমের আওতায় চালু হওয়া ‘স্টার রেটিং সিস্টেম’ টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা ও সার্বিক সেবার মান মূল্যায়নে সহায়তা করবে। এতে ব্যবহারকারীরা তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও উন্নত সেবা বজায় রাখতে উৎসাহিত হবে।
বিশ্ব টয়লেট দিবস উপলক্ষে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ডিএনসিসিকে পাঁচটি মোবাইল টয়লেট হস্তান্তর করেছে। এগুলো রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় স্থাপন করা হবে, যাতে কর্মজীবী মানুষ, নিম্নআয়ের নাগরিক এবং বিশেষ করে নারীরা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য স্যানিটেশন সুবিধা পেতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ভূমিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা রশিদ, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


