চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন।
মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, ধর্ষণের মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। বুধবার মামলার ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
এর আগে, তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেয়, তাতে বলা হয়- ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
মামলার আসামি মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি গুদামে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ ঘটনার ১৩ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ঘটনার পরদিন ২২ মে বিকেলে গ্রেপ্তার মনির হোসেনকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার দিন স্থানীয়ভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন। পরে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে।
তবে আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল।
পরদিন পুলিশ জানায়, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।


