ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পরিকল্পনাকে’ স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র, আঞ্চলিক রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
এতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিশ্বনেতাদের একটি সমন্বিত চুক্তির পক্ষে কাজ করবে। সে চুক্তিতে গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা, বন্দি ও জিম্মি বিনিময় ও মুক্তি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার নিশ্চয়তা থাকবে।
এ ছাড়া ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনে নতুন সংসদীয় নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সাহায্য করবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং হামাসবিহীন একটি নতুন নিরাপত্তা বাহিনীও গঠন করা হবে।
বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পুনর্গঠিত ফিলিস্তিন হবে আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সামরিক সংঘাতবিহীন; যেখানে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চর্চা থাকবে।
অবশ্য এ প্রেক্ষাপটের পূর্ণ বিরোধিতা করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব কেবল বন্দি ও জিম্মি বিনিময় এবং গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিতে নয়।’
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি পাবে কিনা- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘না, একদমই না। ট্রাম্পের টেবিলে রাখা ২০ দফা পরিকল্পনায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির কোনো ধারা নেই এবং ইসরায়েল এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে “জোরালো প্রতিরোধ” গড়ে তুলবে।’

যদিও ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ২০তম দফায় বলা হয়েছে, ‘গাজা পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কাজ কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে অঞ্চলটিতে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে। তারা এতে সফল হলে ‘রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার’ ক্ষেত্রেও একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ রচিত হতে পারে।’
ট্রাম্প প্রস্তাবিত এই বক্তব্যে ফিলিস্তিনকে ‘সরাসরি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতির নিশ্চয়তা দেওয়া না হলেও ভবিষ্যতে সে সম্ভাবনার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে গত সোমবার ‘শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘হামাস এই ২০ দফা প্রস্তাব মেনে নিলে তাৎক্ষণিকভাবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করবে ইসরায়েল।’ আর সেটি না হলে, গাজায় যা ঘটবে যুক্তরাষ্ট্র তার জন্য ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হোয়াইট হাউসের ২০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে আছে, স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধ, গাজায় আটক সব জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া, ইসরায়েলে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি, নতুন ব্যবস্থায় গাজা শাসনে হামাস বিহীন ‘অনির্বাচিত সরকার’ গঠন, হামাসের অস্ত্রসমর্পণ। এ ছাড়া, গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েল সরে আসবে বলেও অঙ্গীকার করা হয়েছে পরিকল্পনায়।


