চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাপ্তাহিক গণশুনানিতে অসহায় ও চিকিৎসা সংকটে পড়া মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েছেন।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং অনেকেই তাৎক্ষণিক সহায়তা পান।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. তারেক হোসেন জানান, তার একমাত্র মেয়ে প্রায় দুই মাস ধরে গুরুতর চর্মরোগে ভুগছে এবং অল্প বেতনে সংসার চালিয়ে চিকিৎসার খরচ বহন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তার কথা ধৈর্য সহকারে শুনে জেলা প্রশাসক মেয়ের সুচিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
একই গণশুনানিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. আলাউদ্দিন তার অসুস্থ স্ত্রী হেনা আক্তারের চিকিৎসা ব্যয়ের সংকটের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ টাকা ওষুধের পেছনে খরচ হয় এবং দুই মেয়ে ও এক ছেলের পড়াশোনার ব্যয়সহ সংসার চালাতে তার হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরে জেলা প্রশাসক তাকেও আর্থিক সহায়তা দেন।
আকবরশাহ থানার পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনির বাসিন্দা মো. রিয়াজ অসুস্থতার কারণে দিনমজুরির কাজ করতে পারছেন না বলে জানালে জেলা প্রশাসক তার আবেদনেও সাড়া দেন। একই এলাকার অসুস্থ মো. হাশেমও গণশুনানিতে আর্থিক সহায়তা পান।
ডবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকার সৃজন মিয়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান এবং তার স্ত্রী চিকিৎসা ও সংসার খরচের জন্য সহায়তার আবেদন করলে জেলা প্রশাসক তা মঞ্জুর করেন।
রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা গ্রামের নাভিদ আনজুম, চট্টগ্রাম কলেজের ডিগ্রি (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পড়াশোনার খরচ মেটাতে সহায়তা চাইলে তাকেও তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নেত্রকোণা সদর থানার মদনপুর গ্রামের মো. ফয়সাল বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য সহায়তা চান এবং তিনি আর্থিক সহায়তা পান।
গণশুনানিতে এদিন মোট ২০ জন সেবাপ্রত্যাশীর আবেদন শোনা হয়। অসুস্থ আটজন নাগরিক ও এক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
পাঁচজন দুস্থ নারীকে নগদ সহায়তার পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়া গুঁড়া সম্বলিত ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।


