অসুস্থ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। হাসপাতালে চেয়ারপারসনের সুস্থতার জন্য প্রতিনিয়ত যেভাবে ব্যস্ত থাকছেন দলের শীর্ষ নেতারা, ঠিক একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য জোরালো প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগোচ্ছে দলটি।
নির্বাচনী তৎপরতা সচল রাখতে চায় দলটির হাইকমান্ড। আর এ কারণে খালেদা জিয়াকে সুস্থ করার সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনী তৎপরতা। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠে কাজ করে যাওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ড থেকে আবারও নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও আগে থেকে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় যেভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার নিদের্শনা ছিল।
এদিকে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে তার (খালেদা) শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান দেখা যায়নি। এ অবস্থায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে।
বিজয়ের মাসে বিএনপির উদ্যোগে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ১ ডিসেম্বর থেকে ‘মশাল রোড শো’ শুরু হয়ে সারা দেশের বিভাগীয় শহরে সমাবেশের পর ঢাকায় ১৬ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় ঘোষিত ‘মশাল রোড শো’কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত স্থগিত কবে বিএনপি।
এ ছাড়া যেভাবে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিল দলটি। সেটিও স্থবির হয়ে পড়ে। তবে সেই স্থবিরতা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। নতুন করে বিএনপি আবার কর্মসূচি শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বক্তব্য, বিবৃতি, সভা, সমাবেশ, আলোচনা সভা, মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপি মনে করছে, দলীয় নেত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি দলকেও নির্বাচনের পক্ষে প্রস্তুত রাখতে হবে। দলের চেয়ারপারসন যখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি। যদিও ৩ নভেম্বর প্রথম ধাপে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দলটি।
দলীয় সূত্র বলছে, এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি সব কর্মসূচি পালন করবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মিত্র দল ও দলীয় প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘টাইমস অব বাংলাদেশকে’ বলেন, ‘আমাদের দলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আমাদের দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। যথাসময় নির্বাচন হতে হবে। এর বিকল্প নেই। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত। আলোচনা করে শিগগির বাকি আসনগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থী দেওয়া হবে।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের সিদ্ধেশ্বরী, ইস্কাটন ও শাহজাহানপুর এলাকায়, গয়েশ্বর রায় ঢাকা-৩ আসনের চুনকুটিয়া, তেঘরিয়া ও জিঞ্জিরায়, ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনের ধূপখোলা, গোপীবাগ ও সূত্রাপুরের কলতাবাজার, সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ আসনের চকরিয়া ও পেকুয়ায় এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্রগ্রাম-১০ আসনের হালিশহর, পাহাড়তলী, পাচঁলাইশ এলাকায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসনের কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ আসনের লালমোহন ও তজুমদ্দিন নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করেছেন।
এ ছাড়া দলের অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করেন। মাঠে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছেন প্রার্থীরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আছি। আমরা আরও ৩৬ আসনের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছি। অনিবার্য কোনো কারণ ছাড়া আমরা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না। নির্বাচন বিলম্বিত হোক, সেটিও চাই না। দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি করেছি আমরা।’
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান টাইমসকে বলেন, বর্তমানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার সুস্থতার জন্য দলের সকল নেতাকর্মী ও দেশের মানুষ দোয়া করছেন। তবে দলের সব কর্মসূচি সচল আছে। স্থবির বলতে কিছু নেই।
প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আর মাত্র ২৮টি আসন ফাঁকা আছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন ফাঁকা আসনে শিগগির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচন পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি।’


