উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, পরিকল্পনার ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় হ্রাস, সরকারের অর্থের অপচয় রোধ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
শনিবার রাজধানীর রমনায় শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘এপিএমসিই ২০২৬-এর উদ্বোধন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পের সফলতা ও ব্যর্থতা: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারের শুরুতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খোকার রচিত প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
পরে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরকৌশল ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত নকশা এবং উদ্ভাবনী প্রকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রকৌশল শিক্ষায় নিয়োজিত হয় এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রকৌশলীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় প্রকৌশলীদের হাজারো সফলতার গল্প রয়েছে। তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মেগা প্রকল্পগুলো আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করতে প্রকল্প গ্রহণের আগে উন্নতমানের সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করা প্রয়োজন। প্রকল্পের শুরুতেই নকশা, ব্যয়, পরিবেশ, সামাজিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমানো সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রযুক্তি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রকল্প সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দক্ষতা, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে যোগ্য প্রকৌশলীদের দায়িত্ব প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়নবিষয়ক সরকারি কমিটিগুলোতে আইইবির সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন, যোগ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রকৌশল খাতের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
তিনি প্রকৌশলীদের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য মোহাম্মদ ইকবাল এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা)।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন।


