আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এর অস্থায়ী কাজ বিমানবন্দরেরর থার্ড টার্মিনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর একটি প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং পণ্য পৌঁছানোর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খালাস নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয় বলে বিজিএমইএর সুত্রে জানা গেছে। দুপুরে বিজিএমইএ-র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের আশঙ্কা, ওই অগ্নিকাণ্ডের পর বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের মতে, এই বিপর্যয় আঘাত হেনেছে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রে। তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ জরুরি রপ্তানি আদেশের জন্য এই খাতটি বিমান পরিবহনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

আগুনে বিমানবন্দরের বেশ কয়েকটি কার্গো হ্যান্ডলিং এলাকা ও গুদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে আকাশ পথে রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রম। এতে পণ্য চালান বিলম্বিত হওয়া এবং রপ্তানির সময়সীমা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন শিল্প নেতারা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখনো মোট ক্ষতির হিসাব করতে পারিনি। তবে এটুকু বলতে পারি, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড় হবে।’

‘চার দশকের প্রবৃদ্ধির পরও আমাদের প্রধান খাতের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নেই, যা এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারে। এটা সত্যিই দুঃখজনক,’ যোগ করেন তিনি।
বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিমের মতে, এ পরিস্থিতিতে ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার বিপর্যয়ের কারণে রপ্তানিকারকরা জরুরি চালানের জন্য বিমান পরিবহনের দিকে ঝুঁকেছিলেন। এই অগ্নিকাণ্ডে এখন সেই শেষ অবলম্বনটিও বন্ধ হয়ে গেল।’
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পচনশীল পণ্য, ওষুধ এবং ইলেকট্রনিক্সের আমদানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমদানিকারকরা তাদের চালান বুঝে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিকল্প পথে পণ্য পাঠানোর চেষ্টা করছেন।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক বলেন, ‘মূলত আমরা বিমানবন্দর দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করি। পরিমাণে কম হলেও এসব কাঁচামাল দিয়েই আমরা রপ্তানির জন্য পণ্য তৈরি করে থাকি। ফলে এসব কাঁচামাল আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আগামী মাসগুলোতে অনেক কারখানা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।


