গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরও পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল।
বুধবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক।
তিনি জানান, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও সিডিসির প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা গ্রহণের ধাপ, আক্রান্ত হওয়ার ধরন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক র্যাবিস চিকিৎসা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর কামড়ের ক্ষেত্রে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল কি না, প্রাথমিক চিকিৎসা সময়মতো ও সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না; এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দিবাকর বসাক বলেন, মাঠ পরিদর্শনের আগে বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। তারা আক্রান্তদের চিকিৎসার অতীত তথ্য, হাসপাতালে ভর্তির সময়, টিকা প্রয়োগের রেকর্ড ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরা হবে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
গত ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে একটি বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় শিশু, নারী ও পুরুষসহ ২১ জন আহত হন। আহত সবাই চিকিৎসা নিলেও তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন নন্দ রানী, মোছা. সুলতানা বেগম, মো. ফুল মিয়া, মোছা. আফরোজা বেগম ও রতনেশ্বর কুমার।


