কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাজারমুখী করে তুলতে আলাদা উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাজারের চাহিদাভিত্তিক করতে হবে। এ লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার, শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার সকাল ১০টায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
মন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক ও কেপিআই (কি পারফরম্যানস ইনডিকেটর) প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্পখাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং বাজারমুখী কারিকুলাম প্রণয়নে কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা দ্রুত দূর করতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মিলন বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগ স্বপ্রণোদিতভাবে নির্ধারণ করবেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, কারণ এখান থেকেই মানবসম্পদ তৈরি হয়। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা একটি বড় দায়িত্ব। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এ বিপুল জনসংখ্যাকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
কারিগরি, ভোকেশনাল ও পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। এ জন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


