কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টা দেশটিতে নতুন এক রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। প্রদেশটি কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার বিষয়ে একটি অ-বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী অক্টোবর মাসে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, আলবার্টা ভবিষ্যতে স্বাধীনতার জন্য কোনো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না, সে বিষয়ে ভোটারদের মতামত নেওয়া।
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, এটি সরাসরি কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভোট নয়। বরং জনগণ ভবিষ্যতে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে কি না, তা যাচাই করাই এর লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পক্ষে ইতিমধ্যে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর জমা পড়েছে। তবে জনমত জরিপের চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে দেখা গেছে, এখনো প্রদেশটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে অবস্থান করছেন।
এরই মধ্যে আদালত সম্প্রতি একটি স্বাধীনতা গণভোটের আবেদন স্থগিত করে দিয়েছেন। আদালতের অভিমত, এ ধরনের বড় উদ্যোগ নেওয়ার আগে স্থানীয় আদিবাসী ‘ফার্স্ট নেশনস’ সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করা আবশ্যক।
আলবার্টার অনেক নাগরিক ও রাজনীতিকের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রদেশটি কানাডার অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখলেও কেন্দ্রীয় সরকার (অটোয়া) এমন কিছু নীতি গ্রহণ করে, যা আলবার্টার প্রধান অর্থনৈতিক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনের পর আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার এই দাবি নতুন গতি পায়।
প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ ফেডারেল সরকারের কাছে জ্বালানি নীতি, পাইপলাইন প্রবেশাধিকার, নির্গমন সীমা এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতার পক্ষে ক্ষোভ থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনো কানাডার ভেতরেই থাকতে চান। অনেকের কাছে এই গণভোটের দাবিটি আসলে স্বাধীনতার চেয়েও অটোয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া এবং নিজেদের দাবি আদায়ের দরকষাকষির হাতিয়ার।
তবে এই উদ্যোগটি কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।


