দিনাজপুরের হাটবাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের আমন ধান। তবে মৌসুমের শুরুতে এই আগাম ধান বিক্রি করেও লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না কৃষক। উল্টো উৎপাদন খরচ না ওঠার অভিযোগ করছেন তারা।
অন্যদিকে, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন ধানের দাম বেশি। ফলে ধানের বাজারকে ঘিরে কৃষক, ক্রেতা ও ব্যবসায়ী এই তিনপক্ষই অসন্তুষ্ট।
সোমবার দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ হাটে ধান বেচাকেনা শুরু হয় ভোর সাড়ে ৫টা থেকে। সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। এদিন হাটে আগাম জাতের প্রতি মণ আমন ধান বিনা-৭, বিনা-১৭, বিনা-৭৫ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫ থেকে ১ হাজার ৭৫ টাকায়। প্রতি মণ কোটরাপাড়ি, পাথরভাটার দাম ছিল ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া অপেক্ষাকৃত দামি পুরোনো বোরো জাতের সম্পা কাটারি ও বগুড়া কাটারির দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ধানের যে দাম চলছে, তাতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। তারা বলেন, ‘সার ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় এমনিতেই উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিক খরচ। সব মিলিয়ে খরচ মিটিয়ে ধান বিক্রি করে লাভের দেখা পাচ্ছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
কৃষকদের লোকসানের দাবির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও মিলাররা। তাদের দাবি, ধানের দাম বেশি হওয়ায় কিনে সুবিধা করতে পারছেন না তারা। তাদের মতে, ভারতীয় চাল আমদানি হওয়ায় দেশের বাজারে ব্যবসার মন্দা চলছে এবং লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
অপরদিকে জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে এবার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এ থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ মেট্রিকটন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। না হলে কৃষকদের কষ্ট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


