কয়েক দফা পেছানোর পর মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচন হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে বাড়তি প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে ডগ স্কোয়াড। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বাহাদুর শাহ পার্ক স্থাপন করা হয়েছে পুলিশের কন্ট্রোল রুম।
আগের সূচি ও পরিবর্তন
গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যাওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
পরে নির্বাচন কমিশন ৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে। এর আগেও ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন একাধিকবার পেছানো হয়েছিল।
ভোটের সময় ও পদ্ধতি
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ডিজিটাল ওএমআর যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।
জকসু নির্বাচনে ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন ভোটার তাদের ভোট দেবেন। পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ২৪২ জন ভোট দেবেন।
ভোট শুরুর আগে সকালে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
জকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক নির্দেশনাবলী জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন এবং ভোট দেওয়ার পর ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়বেন।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগে শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন এবং আইডি কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তারা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবেন না।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক গেট ও পোগোজ স্কুল গেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ভোট চলাকালীন ক্যাম্পাসে বসবাস করা কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের ঘোরাফেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
ভোটের শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে মেডিকেল টিম থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নন, এমন সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, আলাদা দুটি বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ইনস্টিটিউট ও বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
পাশাপাশি ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় কোনো ধরনের ছুটির আবেদন না করতে বলা হয় এবং শিক্ষা সফরের সময়সূচি না রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
ওএমআর যন্ত্রে অসংগতির অভিযোগ
জকসু নির্বাচনের ভোট গণনার জন্য ব্যবহৃত ওএমআর যন্ত্রে অসংগতির অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল, ছাত্রঅধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থী সমন্বিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটির ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব বলেন, ‘বিগত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে যে মেশিনে ভোট গণনা হয়েছে সেখানে নানা অভিযোগ ছিল। যেহেতু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, আমরা এর বিকল্প চেয়েছিলাম।’
‘কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো কর্ণপাত করেনি। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্যানেল প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বৈঠকে মেশিনের বিভিন্ন অসংগতি ধরা পড়ে। বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হলেও তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এজিএস পদপ্রার্থী বিএম আতিকুর রহমান তানজিল বলেন, ‘আমরা মেশিনে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করেছি। শুধু আমরা নই, সব প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। দুটি মেশিনে ডেমো দেখানো হয়েছে–একটিতে এক ধরনের ব্যালট দেখা যায়, আরেকটিতে আরেক ধরনের। কোথাও একভাবে গণনা হচ্ছে, আবার কোথাও ভিন্নভাবে। ওএমআর মেশিনে ক্রস চিহ্নে ভোট গণনার কথা থাকলেও ছোট একটি ফোঁটা পড়লেও সেটি গণনা হচ্ছে।’
জানা গেছে, গত রোববার রাতে জকসু নির্বাচনের সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারাণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরীক্ষামূলকভাবে ওএমআর মেশিনে ভোট প্রদানের ডেমো দেখানোর সময় এসব অসংগতি ধরা পড়ে।


