কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন রায়হানকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার না দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়া সত্ত্বেও প্রথিতযশা কবি মোহন রায়হানকে পুরস্কার না দেওয়া মুক্তবুদ্ধি চর্চার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।’
বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলিম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে কোনো সুনির্দিষ্ট বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই কবি মোহন রায়হানের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা পুরস্কার স্থগিত রাখা কেবল তার ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সৃজনশীল সাহিত্যের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।’
উদীচী নেতারা দাবি করেন, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে—কয়েক দশক আগে রচিত একটি কবিতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কবির সৃষ্টিশীলতাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোহন রায়হান স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন লড়াকু মানুষ। তাকে এভাবে অপমান করা মানে দেশের গণতান্ত্রিক ও সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেছে উদীচী।
বিজ্ঞপ্তিতে উদীচী তিনটি দাবি জানায়। সেগুলো হলো-
১. অবিলম্বে কবি মোহন রায়হানকে যথাযথ মর্যাদায় তার প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।
২. কী কারণে এবং কার প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
৩. সৃজনশীল সাহিত্য চর্চায় রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
সংগঠনটি দেশের সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিবেকবান নাগরিকদের এ ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


