কক্সবাজারে ২ শিশু হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারে ২ শিশু হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
কক্সবাজারে দুই শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুই সহোদর শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ সময় তিন নারীসহ আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান গণি এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশারফ হোসেন টিটু।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গর্জনিয়া বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আবদু শুক্কুর, আলমগীর হোসেন প্রকাশ বুলু, মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একই এলাকার আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা খাতুন ও লায়লা বেগম।

রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় মোকারমা সুলতানা পুতু নামে এক তরুণীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকালে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দোকান কর্মচারী মোহাম্মদ ফোরকানের দুই ছেলে হাসান শাকিল (১০) ও হোসেন কাজল (৮) বাড়ির অদূরে খেলা করছিল। এ সময় পাখির ছানা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ একটি চক্র তাদের অপহরণ করে। পরে ওই দিন রাতে মোবাইলে তাদের পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী চক্র। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়রা মিলে স্থানীয় পাহাড়ী এলাকাসহ অপহরণকারীদের আস্তানায় তল্লাশি চালায়।

তল্লাশির এক পর্যায়ে দুইদিন পর ১৯ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে স্থানীয় জালালের ফলের বাগান সংলগ্ন একটি খালপাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় অপহৃত দুই শিশুর মরদেহ পাওয়ায় যায়।

পরদিন নিহত শিশুদের বাবা মোহাম্মদ ফোরকান বাদী হয়ে রামু থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে অপহরণের পর হত্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন, মুক্তিপণ না দিয়ে পুলিশকে ঘটনা জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়। হত্যা করে একটি বাড়িতে মরদেহ প্রথমে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে সুযোগ বুঝে স্থানীয় খালপাড়ে ফেল দেয় আসামিরা। আসামি জাহাঙ্গীরের কথায় শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে। সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল বলেও জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad