এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। বৈশ্বিক পণ্য আমদানিতে তার প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ায় তড়িঘড়ি করে এই অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন তিনি।
পাশাপাশি অন্য আইনের আওতায় আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করতে নতুন তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যা ভবিষ্যতে আবার শুল্ক আরোপের পথ খুলে দিতে পারে।
শুল্কহার বাড়তে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে হার বাড়ানো হবে। যেসব দেশ বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে, তারা বেশি শুল্কের মুখে পড়তে পারে। অন্যদের জন্য হার যুক্তিসঙ্গত হবে।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতেই ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর অধীনে মঙ্গলবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টের অধীনে আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্কের একটি অংশ বদল করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে যেসব পণ্যে বর্ধিত শুল্ক বাতিল করা হয়েছে তাতে শুল্ক আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন আদেশেও কিছু পণ্যে আগের মতোই শুল্কছাড় বহাল রেখেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে বিমান ও মহাকাশ খাতের পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি ও কিছু হালকা ট্রাক। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণ শর্তে মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যও ছাড়ের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি ওষুধ, কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং কৃষিপণ্যও এই ছাড়ের তালিকায় রয়েছে।
ট্রাম্পের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক এবং সেকশন ৩০১ ও সেকশন ২৩২-এর অধীনে সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক মিলিয়ে ২০২৬ সালে শুল্ক থেকে সরকারের আয় প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘সবার জন্য প্রায় একই শুল্কস্তরই বহাল থাকবে তবে এবার পদ্ধতিটি হবে ঘুরপথে এবং সামান্য জটিল পর্যায়ে।’
তার মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে দরকষাকষিতে ট্রাম্পের সুবিধা কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সেকশন ১২২ আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি। এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট যেকোনো দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। তবে ১৫০ দিনের পর শুল্ক বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাদের কাছে বিকল্প আছে এবং তা শক্তিশালী বিকল্প। এতে বরং দেশের জন্য আরও বেশি অর্থ আসতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আদেশে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বড় ও গুরুতর পরিশোধ ভারসাম্য ঘাটতি রয়েছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর অধীনে দেশভিত্তিক নতুন কয়েকটি তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, অন্য দেশ ও কোম্পানির অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।
নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরকে এমন কার্যক্রম, নীতি ও চর্চা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সীমিত করে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে চীন ও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ভিয়েতনাম ও কানাডার মতো বড় বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করার বিষয়ে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন। ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিষয়ক চেয়ার জশ লিপস্কি বলেছেন, প্রশাসন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে সেকশন ১২২-এর শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তার আগেই চূড়ান্ত রায় আসা কঠিন।
সেকশন ১২২-সহ অন্য আইনে যাওয়ার এই পদক্ষেপ আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। তবে সেকশন ৩০১-এর তদন্ত শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। ১০ শতাংশ শুল্ক পাঁচ মাস কার্যকর থাকবে। ট্রাম্প বলেছেন, এই সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনে শুল্ক বাড়ানো যাবে।


