প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ঠিক আগে আগেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এদিকে আগামী ২৩ জুন থেকে ২৬ জুন চীন সফর করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন। বৈদেশিক অর্থায়ন চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার’স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় আসবে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর জি টু জি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ডেভেলপার চুক্তির পর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় সই করা সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় জেটি লিংক সড়ক, প্রধান সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (ডিআরএস), সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, বাউন্ডারি ওয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনসহ আধুনিক শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সরকারের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আসবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থানকে এই অঞ্চলের কৌশলগত সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সহায়তা করবে বলে সরকার জানিয়েছে।


