‘এই সময়’ নামে কোনো পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার দাবি, ভারতের গণমাধ্যমটিতে তার নামে যে সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বৈঠকে নিউইয়র্ক থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।
লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নিজের বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের ‘এই সময়’ পত্রিকায় সংবাদটি ফেইক নিউজ।
তিনি জানান, পত্রিকার ওই সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে এলেও তিনি কোনো কথা বলেননি।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি রাত পৌনে ৯টায় শুরু হয়ে সোয়া ১১টায় শেষ হয়। বৈঠক শেষে যোগাযোগ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে এই মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। কোনো রাজনৈতিক নেতা এরকম অবান্তর কথা বলতে পারে? এটা উদ্দেশ্যমূলক।’
ভারতের পত্রিকাটিতে ছাপা হওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে দিনভর ছিল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা। এক সময়ের মিত্র জামায়াত নিয়ে করা একটি বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয় আনুষ্ঠানিকভাবে।

৩০টি আসন না দেয়ায় পিআর নিয়ে বিএনপির ওপর জামায়াতের চাপ সৃষ্টি করার কথাটিও মিথ্যা বলে জানান মির্জা ফখরুল।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী বিএনপি মহাসচিব, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ ডা. মোহাম্মদ আবু তাহের ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর নিউইয়র্কে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবিও জানানো হয়।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী পাঁচ রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর প্রবাসী আওয়ামী লীগের হামলার বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।
ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে আহ্বান জানান তারেক রহমান। নির্বাচনকে সামনে রেখে পরাজিত শক্তি যেন বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে পরামর্শ দেন তিনি।


