রাজধানীর উত্তরায় একটি শপিং কমপ্লেক্সে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শামীম জানিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. মনির আলম, মো. মজিবর রহমান, মো. হৃদয়, মো. মঞ্জুরুল, মো. মহব্বত আলী, শাহ পরান, মো. শাকিল, মো. রশিদুল ইসলাম ওরফে আ রশিদ, মো. সাজু, মো. লিটন এবং জিহাদ।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তারা বলেন, আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন-এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা দেখাতে পারেননি।
আইনজীবীরা আরও বলেন, আসামিদের মধ্যে কেউ রিকশাচালক, কেউ দিনমজুর এবং তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়া-আসারও প্রমাণ নেই।
আসামি মজিবর রহমানের আইনজীবী দিলীপ কুমার সরকার আদালতে বলেন, এ মামলায় রিমান্ড চাওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই, নির্দিষ্ট অভিযোগও স্পষ্ট করা হয়নি এবং উদ্ধারের মতো কোনো আলামতের কথাও বলা হয়নি।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডে অবস্থিত উত্তরা স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে এক রিকশাচালকের সঙ্গে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তারক্ষীর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ওই রিকশাচালক ও তার সঙ্গে থাকা আরও ১৫ থেকে ২০ জন নিরাপত্তারক্ষী ও কমপ্লেক্সের লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে তাদের মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন উত্তেজিত লোক লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার কাচ ভাঙচুর করে।
এ সময় সুযোগ নিয়ে আসামিরা কমপ্লেক্সের ভেতরের খাজানা ভ্যারাইটিজ স্টোর থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল এবং কেজেড ইমিটেশন জুয়েলারি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার গয়না লুট করে নিয়ে যান বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং সড়কে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে কমপ্লেক্সটির প্রায় নয় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী দাবি করেছেন। দীর্ঘ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ঘটনার মূল হোতা ও উস্কানিদাতাদের শনাক্ত, লুট হওয়া প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনায় সোমবার কমপ্লেক্সটির ইলেকট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন।


