ফের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ডিমের বাজার। গত এক মাসে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২৫-৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫-১৫০ টাকায়। এতে দৈনিক আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে হঠাৎ করেই ডিমের চাহিদা বেড়ে গেলেও ডিমের যোগান বাড়েনি। এতে প্রভাব পড়েছে ডিমের বাজারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সবজি, মাছ, মুরগিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম চড়া। কাজেই দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সাধারণ ভোক্তারা বেশি ঝুঁকছেন ডিমের প্রতি। আর সে সুযোগ নিয়ে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে ব্যবসায়ীদের একাংশ।
তবে উৎপাদকরা বলছেন, অনেক ছোট খামারি খামার বন্ধ করে দেওয়ায় বাজার চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদন কমে গেছে।
প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। লোকসানের কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রান্তিক খামারিদের রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সাধারণত দেশে দৈনিক সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি ডিমের চাহিদা থাকে। দৈনিক ডিম উৎপাদিত হয় ৫ কোটির কাছাকাছি। কাজেই হঠাৎ ডিমের চাহিদা বেড়ে গেলে বা সরবরাহ কমে গেলে বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।
গত সেপ্টেম্বরে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পর ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বাজারে লাগাম টানতে উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম বেঁধে দেয়া হয়।
সে সময় উৎপাদন পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম ধরা হয় ১০ টাকা ৫৮ পয়সা। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পিস ডিম ১১ টাকা ১ পয়সা ও খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। খুচরা পর্যায়ে এক ডজন ডিমের দাম নির্ধারিত হয় ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা।
তারপর থেকে কিছুটা ওঠানামার মধ্যে থাকলেও ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই ছিল ডিম। তবে আগস্টের শুরু থেকে ফের বাড়তে শুরু করে ডিমের দাম।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে সর্বোচ্চ দাম ধরে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬৩ পয়সা বেশি। তবে কোনো কোনো এলাকার দোকানগুলোতে ডজনপ্রতি ১৫৫ টাকা পর্যন্তও ডিম বিক্রি হচ্ছে।


