গেল ঈদুল আযহায় মুক্তি পেয়েছিল ‘তাণ্ডব’, ‘ইনসাফ’, ‘উৎসব’, ‘নীলচক্র’, ‘এশা মার্ডার-কর্মফল’ ও ‘টগর’। এর মধ্যে ‘তাণ্ডব’ ও ‘উৎসব’ ব্যবসায়িক সফলতা পেলেও বাকি ছবিগুলো পায়নি।
এরপর কেটে গেছে পাঁচ মাস। এ কয়েক মাসে বেশ কিছু সিনেমা মুক্তি পেলেও একটিও ব্যবসায়িক সফলতা পায়নি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির কর্তা ব্যক্তিরা।
ঈদের পর জুলাই মাসে মুক্তি পায় ‘আলী’, ‘উড়াল’, ‘জলরঙ’, ‘অন্যদিন’। আগস্টে মুক্তি পায় আটটি সিনেমা—‘আমার শেষ কথা’, ‘ডট’, ‘নন্দিনী’, ‘উদীয়মান সূর্য’, ‘আতরবিবি লেন’, ‘বাড়ির নাম শাহানা’, ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ ও ‘সাইলেন্স’। অক্টোবরের ২৯ দিনে মুক্তি পেয়েছে ‘ব্যাচেলর ইন ট্রিপ’, ‘বান্ধব’, ‘অন্ধকারে আলো’, ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’, ‘সাত ভাই চম্পা’ এবং ‘কন্যা’। এছাড়া মাসের শেষ দিন মুক্তি পাবে ‘বেহুলা দরদী’।
২০১৭ সালে ২১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছিল ‘ঢাকা অ্যাটাক’। আবার ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিল ‘দেবী’। পরপর দুবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া এই দুটি সিনেমা ঈদ কিংবা বাংলা নববর্ষ, ভালোবাসা দিবসের মতো উপলক্ষ্য বাদ দিয়ে মুক্তি পেলেও দারুণ সফল হয়। এ সফলতার পর প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ভালো সিনেমা মুক্তির হিড়িক পড়ে। যার অধিকাংশ ব্যবসায়িক সফলতাও পায়।
কিন্তু ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে গত দুই বছর। এ বছরগুলোয় ঈদ ছাড়া সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়ছে।
কেন এমনটা হচ্ছে তা জানতে চাইলে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন দায়ী করলেন মান-সম্পন্ন সিনেমার অভাবকে।
তিনি বলেন, ‘এই সময়ে এসে এত সহজ না মানুষকে বোকা বানিয়ে সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়া। যা ইচ্ছে তা বানালাম, মুক্তি দিলাম; এসব আর এখন চলে না।’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, দর্শক কেন তার সমস্ত কাজ ফেলে এক হাজার টাকার বেশি খরচ করে এমন ‘মানহীন’ সিনেমা দেখবে?
শাকিব খান নির্ভরতা থেকেও বের হয়ে আসার পরামর্শ সুমনের। তিনি বলেন, ‘শাকিবের সিনেমাও তো এখন ঈদ ছাড়া চলে না। অনন্য মামুন তো তাকে নিয়ে “দরদ” মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু ঈদ ছাড়া সেটিও তো চলেনি। আমাদের অন্যান্য নায়ক-নায়িকাদের প্রতিও জোর দিতে হবে।’
‘দর্শক ভীষণ আগ্রহ নিয়ে সিনেমা মুক্তির জন্য অপেক্ষা করবে, এমন সিনেমা বানাতে হবে। তাহলেই এ দূরাবস্থা কেটে যাবে’, বলেন সুমন।
সিনেমা হল মালিকদের সংগঠন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন সেসব সিনেমা মুক্তি পায় সেগুলো সিনেমা হলে চলার উপযোগী না, তাই দর্শক আসছে না। ফলশ্রুতিতে সিনেমা ব্যবসা করছে না।’
এ সংকট উত্তরণে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘আমরা হল মালিকদের তরফ থেকে বেশ কয়েকবার তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের সময় দেননি।’
সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতীয় হিন্দি ও বাংলা ভাষার সিনেমা আসত দেশে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হিন্দি ছবি এসেছে মাত্র দুটি। কিন্তু সে দুটিও ভারতের সঙ্গে একই সময়ে মুক্তি পায়নি।
এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশীয় ভালো সিনেমার যেহেতু অভাব, তাই আমরা সিনেমা হল বাঁচাতে ভারতীয় সিনেমা চেয়েছি। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কর্ণপাত করছে না। এমন অবস্থা হয়েছে আমাদেরকে হল বন্ধ করে দিতে হবে।’


