যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ফলে লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশটিতে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার ৫২৬ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৭৩৩ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম বলেছেন, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কোনো আলোচনায় হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি এবং তারা এ চুক্তির পক্ষ নয়।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, লেবানন থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সামরিক অভিযানও বন্ধ হবে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবানন পরিস্থিতিতে অগ্রগতি হচ্ছে এবং দেশটি শান্তি পাওয়ার যোগ্য। তবে সংঘাত কমার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
হিজবুল্লাহর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের কুর্দস ফোর্সের কমান্ডার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে তারা যে অবস্থানে ইসরায়েল ছিল, অন্তত সেখানে ফিরে যেতে হবে।
গাজা, উত্তর ইসরায়েল, লেবানন ও কুয়েতেও এ সপ্তাহে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে কয়েকটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেগুলোকে ‘পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সীমিত মাত্রার গোলাগুলি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর আপত্তি এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাকেও জটিল করে তুলছে।


